অপরাধআইন – আদালত

গোপালপুরে ইয়াবাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার, উদ্বেগের জায়গাটা এখানেই

রাহেল:
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ রেজাউল করিম ওরফে রেজা ফকির (৩৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার নগদা শিমলা ইউনিয়নের চর শিমলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।]

গ্রেফতার রেজাউল করিম চাতুটিয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি সৈয়দপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের তথ্য ছিল। বুধবার চর শিমলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলচালক মনিরুজ্জামান মুন্নাকেও আটক করা হয়। তিনি গুলিপেঁচা গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

গোপালপুর থানার এসআই নজরুল ইসলামের ভাষ্য, অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের পর তাদের আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মো. রুহুল আমিন। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ, এখানে শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি নয়, জড়িয়ে আছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরিচয়ও। যিনি শিশুদের শিক্ষা ও নৈতিকতার পাঠ দেবেন, তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।

তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, গ্রেফতার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

একই সঙ্গে যদি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি শিক্ষক কিংবা অন্য যে কোনো পরিচয়ের হোন না কেন, আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ মাদক কোনো ব্যক্তির একার ক্ষতি করে না; এর বিষাক্ত প্রভাব পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষাঙ্গনকে মাদকের ছায়ামুক্ত রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক, সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

এই ঘটনা তাই নিছক একটি গ্রেফতারের খবর নয়; বরং আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি সতর্ক সংকেত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button